কীভাবে পবিত্র জীবন ধারণ করবেন | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 100 বার

কীভাবে পবিত্র জীবন ধারণ করবেন | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে অপবিত্রতা দুই প্রকার। মানসিক অপবিত্রতা ও শারীরিক অপবিত্রতা। কুফর থেকে ইসলামে প্রবেশের মাধ্যমে মানসিক অপবিত্রতা দূর হয়। একইভাবে শারীরিক অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ারও নির্ধারিত পদ্ধতি ইসলাম সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছে। তবে ইসলাম শারীরিক অপবিত্রতাকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে অজু করেই পবিত্র হওয়া যায়, গোসল আবশ্যক নয় এ ধরনের অপবিত্রতাকে নাজাসাতে খফিফাহ বলে। আর যে ধরনের অপবিত্রতা থেকে গোসল ছাড়া পবিত্র হওয়ার উপায় নেই এ ধরনের অপবিত্রতাকে ফকিহদের পরিভাষায় নাজাসাতে গালিজাহ বলে। প্রস্রাব-পায়খানা ইত্যাদি জাতীয় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য অজু করে নেওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু পুরুষ-নারীর এমন কিছু একান্ত ব্যাপার আছে, যেসব কারণে অপবিত্র হলে গোসল না করা পর্যন্ত শরীর পবিত্র হয় না। এ ধরনের অপবিত্রতা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করা ফরজ। জানার বিষয় হলো, ফরজ গোসল কি দেরি করে করা যায় নাকি সঙ্গে সঙ্গেই করে নিতে হয়? গোসল ফরজ অবস্থায় অনেকের মনেই এক ধরনের পাপবোধ কাজ করতে থাকে। এমন কথাও শোনা যায়, যতক্ষণ ফরজ গোসল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমলনামায় ফেরেশতারা গুনাহ লিখতে থাকে। কোনো কোনো সুফি এ কথাও বলেছেন, ফরজ গোসল অবস্থায় মাটিতে পা রাখলে মাটি অভিশাপ দিতে থাকে। আসুন জেনে নিই এ বিষয়ে শয়িরত কী বলে- ১. ফরজ গোসল যথাসম্ভব দ্রুত করে নেওয়া মুসতাহাব বা ভালো, ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়। ২. ফরজ গোসল এত দেরি করে করা উচিত নয় যে, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়ে যায়। নামাজ কাজা করা নিঃসন্দেহে কবিরা গুনাহ। ফরজ গোসল করতে না পারার জন্য নামাজ কাজা করার অজুহাত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। ৩. ফরজ গোসল দেরি করেও করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে সুন্নত হলো, ভালো করে অজু করে নেওয়া। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.)-এর গোসল ফরজ হলে তিনি যদি পরে গোসল করতে চাইতেন, কিংবা কিছু খেতে অথবা ঘুমাতে চাইতেন, তাহলে নামাজের অজুর মতো অজু করে নিতেন।’ মুসলিম। ৪. গোসল ফরজ অবস্থায় মনে মনে যে পাপবোধ আসে তা ঠিক নয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘একবার আমার গোসল ফরজ হলে রসুল (সা.) আমাকে ডেকে তাঁর সঙ্গে খেতে বললেন। তিনি আমার হাত ধরতে চাইলেন। আমি হাত গুটিয়ে নিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসুল! আমি তো অপবিত্র। তিনি বললেন, মুমিন কখনো অপবিত্র হয় না।’ তিরমিজি। হাদিসটি বুখারি ও মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে। ৫. অপবিত্র অবস্থায় থাকার সময়টুকু গুনাহ লেখা হয়, ওই সময় মাটিতে পা রাখলে মাটি অভিশাপ দেয় এ ধরনের কথা প্রসিদ্ধ হাদিসের কিতাবগুলোয় পাওয়া যায় না।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন।
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments