গোনাহ মাফের এই তো সুযোগ

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ | পড়া হয়েছে 24 বার

গোনাহ মাফের এই তো সুযোগ

আমরা রমজানের প্রথম দশক অতিবাহিত করছি। আল্লাহর অশেষ শোকরিয়া তিনি এখনও আমাকে-আপনাকে সুস্থ রেখেছেন। প্রতিদিন পৃথিবীতে হাজার হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। আল্লাহ এ পর্যন্ত আমাদের সুস্থ রেখেছেন। শুধু তাই নয়, রমজানের মতো দামি একটা উপহার আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। এ উপহার সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলেই আমরা সফল হব। আর যদি এবারও হেলায়ফেলায় রমজান কেটে যায়, তা হলে আমাদের মতো ক্ষতিগ্রস্ত-হতভাগ্য আর কেউ হবে না।
বুখারি শরিফের কিতাবুল ঈমানে জলিলুল কদর সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতেসাবের সঙ্গে মাহে রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্বের জীবনের গোনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি : হাদিস ৩৮)
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় পাকিস্তানের প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ড. তাহেরুল কাদেরি বলেন, ‘শুধু রোজা রাখলেই হবে না, হৃদয়ে ঈমানও থাকতে হবে। আর ঈমান হলো আল্লাহর রাসুল (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা মনেপ্রাণে সত্য বলে মেনে নেওয়া। অসংখ্য বিধিবিধানের সঙ্গে রোজাও রাসুল (সা.) আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত হয়েছেন এবং রোজা রাখা আমার জন্য আবশ্যক, যখন বান্দার মনে এমন ধারণা গেঁথে যাবে এবং এ পবিত্র ধারণা নিয়ে সে রোজা রাখা শুরু করবে, তখনই সে হাদিসে বলা ‘ঈমানের রোজা’ পালন করবে।’ ইহতিসাবের ব্যাখ্যায় ড. তাহেরুল কাদেরি বলেন, ‘ইহতিসাবের এক অর্থ হলো ইখলাস। অর্থাৎ বান্দা রোজা রাখবে আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশায় এবং নিজের ভেতরের খারাপ ও মন্দ অভ্যাসগুলো বর্জনের নিয়তে। এমন রোজার মাধ্যমেই নফস কাবু হবে এবং প্রভু খুশি হবেন। আর খুশির প্রতিদান হিসেবে বান্দার জীবনের পূর্বের সব গোনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (ফালাসাফায়ে সিয়াম : ১৮ পৃষ্ঠা)
একই কথা আরেকটি হাদিসে ভিন্নভাবে বলা হয়েছে। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাবসহ মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা করবে, তাকে আল্লাহ সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো মাসুম-নিষ্পাপ করে দেবেন। অর্থাৎ তার আমলনামা থেকে গোনাগুলো মুছে দেওয়া হবে।’ (নাসায়ি : হাদিস ২২০৮)। রোজাদারের পুরস্কারের অনাবিল ঝরনাধারা এখানেই শেষ নয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফতার করে। আরেকটি হলো যখন সে প্রভুকে দেখবে।’ (বুখারি : হাদিস ১৮০৫)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় সুফি সদর উদ্দিন চিশতি (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ সিয়াম দর্শনে লিখেছেন, ‘এখানে দুটি সিয়ামের কথা বলা হয়েছে। একটি হলো দেহের সিয়াম। অন্যটি আত্মার। দেহ ইফতারের সময় খাবার খেয়ে সন্তুষ্ট হবে। আর আত্মা জান্নাতে আল্লাহর দিদার পেয়ে তৃপ্ত হবে। হাদিসে এ কথাই বলা হয়েছে।’
ড. তাহেরুল কাদেরি একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, শহীদরা মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর দিদার পাবে। তারপর তারা জান্নাতে সবুজ পাখি হয়ে উড়তে থাকবে। আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা আর কী চাও আমার কাছে? জবাবে তারা বলবেন, হে আল্লাহ! আপনার দিদারের মতো প্রশান্তি! এত তৃপ্তি! আর কিছুতেই পাইনি। আপনি আমাদের আবার দুনিয়ায় পাঠান, আমরা আবার শহীদ হই এবং আপনার দিদারে ধন্য হই। তাহেরুল কাদেরি বলেন, ‘জান্নাতিরা আল্লাহর দর্শনের জন্য বারবার শহীদ হতে চাইবেন আর আল্লাহ নিজে আগ্রহ করে সিয়াম পালনকারীদের দিদার দেবেন। সিয়ামের মর্যাদা তা হলে কত ওপরে ভেবে দেখুন!’ (ফালাসাফায়ে সিয়াম : ১৯ পৃষ্ঠা)
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি

লেখাটি সময়ের আলো পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com