ধর্মের খুঁটি সালাত

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | মঙ্গলবার, ০৮ জুন ২০২১ | পড়া হয়েছে 46 বার

ধর্মের খুঁটি সালাত

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

একটি বিল্ডিং যেমন কয়েকটি পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তেমনি আমাদের ধর্ম ইসলামও পাঁচটি পিলারের ওপর দাঁড়ানো। পিলার খসে পড়লে কিংবা নড়বড়ে হয়ে গেলে যেমন পুরো বিল্ডিংটি ধসে পড়ে, তেমনি ইসলামের এ পিলারগুলোও যদি নড়ে ওঠে, তাহলে ইসলামও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। ইসলাম ধ্বংস হলে আমার-আপনার ভেতরে থাকা ঈমান নামক ভবনটি খসে পড়বে। আমার ভেতরে থাকা ইসলাম নামক আলো নিভে যাবে। একটি শক্তিশালী বিল্ডিংয়ের মতো ইসলামের এ খুঁটিগুলো দাঁড়ানো। ইসলামের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী খুঁটির নাম হলো সালাত। এক হাদিসে রাসূল (সা.) শুধু সালাতকেই ইসলামের একটি পিলার বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন, আসসালাতু ইমাদুদ্দিন। সালাত হলো ধর্মের খুঁটি। কারও যদি সালাত ঠিক থাকে, তাহলে আশা করা যায়, তার পুরো ধর্ম ঠিক হয়ে যাবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য! আমাদের সমাজে সালাতের প্রতি উদাসীনতা দিন দিন বেড়েই চলছে। সাপ্তাহিক মুসল্লি বাড়লেও নিয়মিত মুসল্লি খুব কম আমাদের দেশে। নিয়মিত মুসল্লিদের মধ্যে আবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকভাবে পড়েন এমন মুসল্লির সংখ্যা আরও কম। আর সালাতময় জীবনগঠনকারী মুসল্লির সংখ্যা তো হাতেগোনা কয়েকজন মাত্র। সালাতের প্রতি এ উদাসীনতা ধর্মের দৃষ্টিতে বড় ভয়াবহ গোনাহ! তাবেঈ হারেস (রহ.) হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সালাতের প্রতি উদাসীন, অমনোযোগী বান্দার জন্য পনেরোটি শাস্তি আল্লাহতায়ালা নির্ধারণ করে রেখেছেন। আসুন জেনে নিই, সে পনেরোটি শাস্তি সম্পর্কে।

সালাতের প্রতি উদাসীন বান্দার জন্য দুনিয়াতে রয়েছে ছয়টি শাস্তি। নেককার-সৌভাগ্যবান বান্দার তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়বে। কাজ-কর্মে বরকত কমে যাবে। রিজিকের বরকত কমে যাবে। অনেক আয় করবে; কিন্তু বরকত পাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সালাতি জিন্দেগিতে ফিরে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যান্য ভালো কাজ আল্লাহর কাছে গ্রহণ হবে না। এমন ব্যক্তির প্রার্থনা শোনা হবে না। নেককারদের প্রার্থনার অংশও সে পাবে না।

সালাতে অমনোযোগী বান্দা যখন মৃত্যুর মুখোমুখি হবে তখন তাকে তিনটি শাস্তি দেওয়া হবে। প্রচণ্ড পিপাসা নিয়ে সে মারা যাবে। মনে হবে সাত সাগর তেরো নদীর পানি পান করেও পিপাসা মিটবে না। হঠাৎ মারা যাবে। তওবা করার সুযোগ পাবে না। ঋণ আদায়েরও সময় হবে না। মৃত্যুর সময় তার ঘাড়ে লোহার ভারী ভারী বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হবে।

কবরে পাবে সে আরও তিনটি শাস্তি। কবর তার জন্য ছোট হয়ে আসবে। এত ছোট যে, শরীরের হাড্ডি শরীরেই ভেঙে যাবে। কবরজুড়ে থাকবে ঘন অন্ধকার। মুনকার-নকির ফেরেশতার প্রশ্নের জওয়াব দিতে পারবে না। কেয়ামতের দিন হাশরের মাঠে সর্বশেষ তিনটি শাস্তি পেয়ে জাহান্নামের পথে এগিয়ে যাবে হতভাগা নামাজে উদাসীন ব্যক্তি। সেদিন আল্লাহতায়ালা তার ওপর রহমতের দৃষ্টি দেবেন না। প্রচণ্ড রেগে থাকবেন তার ওপর। তার হিসাব নেওয়া হবে খুব কঠিনভাবে! রাসূল (সা.) বলেছেন, যার হিসাব সেদিন কঠিনভাবে নেওয়া হবে, সে তো জাহান্নামেই যাবে। আরেক হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন সবার আগে নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজের প্রতি উদাসীন বান্দা যখন নামাজ এবং অন্যান্য আমলের হিসাব দিতে পারবে না, তখন তার জন্য জাহান্নাম ছাড়া আর কীইবা অপেক্ষা করবে!

আসুন, আজ থেকে, এখন থেকেই আমরা নামাজের প্রতি সজাগ ও সচেতন হই। নামাজের পুুরস্কার হিসাবে আল্লাহতায়ালা অবশ্যই আমাদের জান্নাতের উত্তরাধিকারী করবেন। সে ওয়াদা আল্লাহ আমাদের সঙ্গে করেছেন।

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর

www.selimazadi.com

লেখাটি যুগান্ত পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com