নিজেকে সজীব রাখুন রহমতের আশায় | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | শনিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 42 বার

নিজেকে সজীব রাখুন রহমতের আশায় | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

নিজেকে সজীব রাখুন রহমতের আশায়
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
দিন যতই এগোচ্ছে, অবস্থা খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশ্লেষকরা ভেবে পাচ্ছেন না করোনার ক্ষয়ক্ষতি কত দূর গড়াতে পারে। অনেকেই ধারণা করছেন, হয়তো করোনার ক্ষয়ক্ষতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আবার কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের কারণে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধও হতে পারে। কী হবে না হবে তা সময়ই বলে দেবে। কে বাঁচবে কে মরবে তাও সময়মতোই দেখা যাবে। একজন মুসলমান হিসেবে এ মুহূর্তে আমাদের কিছু করণীয় আছে।

প্রথমত, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করোনার ভয়াল থাবা দেখে ভয়ে মুষড়ে পড়া মুমিনের জন্য শোভনীয় নয়। মুমিন তো কেবল ভয় পাবে আল্লাহকে। আল্লাহ যদি করোনায় মৃত্যু লিখে থাকেন, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ! নবীজির ঘোষণামতে আমি শাহাদাতের মৃত্যু লাভ করব। করোনায় মৃত্যুর মড়ক দেখে হতাশ হওয়া যাবে না। সর্বক্ষণ প্রভুর রহমতের আশায় নিজেকে সজীব রাখতে হবে। যিনি আজ বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছেন, তিনিই আবার একে প্রাণচঞ্চল করে তুলবেন। আমাদের শুধু ধৈর্য ধরে আল্লাহর খেলা দেখে যেতে হবে। আল কোরআনে আল্লাহ বলছেন, ‘ভয়, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং জীবন বিপন্ন করে তোমাদের আমি পরীক্ষা করব। যারা ধৈর্য অলম্বন করবে, তাদের জন্য শুভদিন অপেক্ষা করছে।’ সূরা বাকারাহ, আয়াত ১৫৫।

দ্বিতীয়ত, সরকারি নির্দেশনা পুরোপুরি মেনে চলা। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে দৈনন্দিন কাজকর্ম করা। করোনা প্রতিরোধে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ সরকারও বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করছে। চিকিৎসকরা হোম কোয়ারেন্টাইন অর্থাৎ নিজ নিজ ঘরে অবস্থানের জোর পরামর্শ দিয়েছেন। যাদের শরীর খারাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তাদের আইসোলেশন অর্থাৎ নিজের স্বাস্থ্য নিজেই পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা সবার জন্য মেনে চলা জরুরি। পাশাপাশি এই সময়ে মসজিদে যাওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাগুলো মেনে চলা আমাদের জন্য ইবাদত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুলুল্লাহকে মহামারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। উত্তরে তিনি বললেন, মহামারী হলো আল্লাহর এক ধরনের আজাব। যাদের ওপর আল্লাহ রাগ করেন, তাদের ওপর তিনি এ আজাব পাঠান। তবে ইমানদারদের জন্য নিজ অনুগ্রহে মহামারীকে রহমত বানিয়ে দেন। তাই কোনো ব্যক্তি যদি মহামারী আক্রান্ত এলাকায় থাকে এবং নিজ ঘরে ধৈর্যের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে এ বিশ্বাস বুকে নিয়ে অবস্থান করে যে, আল্লাহ তকদিরে যা রেখেছেন তার বাইরে কিছুই হবে না; তাহলে সে আল্লাহর কাছে শহীদি মর্যাদা পাবে।’ মুসনাদে আহমাদ। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) বলেন, ‘হাদিসে উল্লিখিত তিনটি শর্ত তথা সবর, সওয়াবের আশা এবং আল্লাহর প্রতি ভরসাসহ যদি মহামারীগ্রস্ত এলাকার কোনো মুসলমান হোম কোয়ারেন্টাইন তথা ঘরবন্দী-জীবন যাপন করে, তাহলে সে শহীদি মর্যাদা পাবে।’ ফাতহুল বারি, প্রথম খন্ড, ১৯৪ পৃষ্ঠা।
লেখক : মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।

www.selimazadi.com
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments