নিজে ভালো হয়ে অন্যের ভালো করি

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭ | পড়া হয়েছে 515 বার

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর গোলামী ও দাসত্ব করার জন্য। সূরা জারিয়াতের ৫৪নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন— ‘ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনসা ইল্লা লিয়াবুদুন’। অর্থাৎ ‘আমি মানুষ ও জিনকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ এ ইবাদতের অপর নাম নেক আমল বা সৎকাজ। মূলত সৎকাজের জন্যই এ বিশ্বচরাচর এবং নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টি করা হয়েছে সুখের উল্লাসময় জীবন এবং দুঃখের চিহ্নস্বরূপ মৃত্যু। সূরা মূলকের ১-২নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি বড়ই মহান ও শ্রেষ্ঠ যাঁর হাতে রয়েছে সৃষ্টিলোকের রাজত্ব। আর তিনি প্রতিটি জিনিসের ওপর শক্তিমান। তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে নেক আমলের দিক থেকে কে বেশি ভালো। তিনি মহাশক্তিশালী ও ক্ষমাশীল।’

পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহতায়ালা সৎকাজের গুরুত্ব ও তাত্পর্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন। সূরা তীনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সবচেয়ে সুন্দর আকৃতিতে। তারপর বদ আমলের কারণে তাকে পৌঁছে দেই সবচেয়ে নিকৃষ্ট অবস্থায়। তবে তাদের নয়, যারা ইমান আনে এবং নেক আমল করে। তাদের জন্য তো রয়েছে এমন পুরস্কার, যা কখনো শেষ হবে না।’ (সূরা তীন : ৫-৭)। সূরা আসরে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সময়ের শপথ। প্রত্যেক মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে যারা ইমান আনে, নেক আমল করে, সত্যের পথে দাওয়াত দেয় এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দেয় তারা ক্ষতি থেকে মুক্ত।’ (সূরা আসর : ১-৩।)

সৎকাজের গুরুত্ব সম্পর্কে সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা নেক আমল ও বদ আমলের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নেক আমলের তাত্পর্য এত বেশি যে, কেউ যখন নেক আমলের সংকল্প করে, আল্লাহতায়ালা তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। আর যখন সে তা সম্পন্ন করে তখন তার আমলনামায় দশ থেকে সাতশ নেকি লেখা হয়। (সহি বুখারি ও মুসলিম)।

কেয়ামতের দিন বান্দা তার সামান্য সৎকাজের সম্পর্কেও জানতে পারবে। একটি ছোট সৎকাজও তাকে বড় ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারবে। সূরা যিলযালের ৭-৮নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কেউ যদি অণু পরিমাণ নেক আমল করে তবে সেদিন তা দেখতে পাবে। আবার কেউ যদি অণু পরিমাণ বদ আমলও করে, তবে তাও সে দেখতে পাবে।’ সৎকাজের প্রতিদান সম্পর্কে সূরা ইনফিতারে আল্লাহ বলেন, ‘সৎকাজকারীরা থাকবে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে। আর বদ আমলকারীরা থাকবে প্রজ্বলিত আগুনে।’ (ইনফিতার : ১৩-১৪)।

দুনিয়া ও পরকালের জীবনে সুন্দরভাবে বসবাসের জন্য সৎকাজের গুরুত্ব অপরিসীম। নিজে সৎকাজ করার পাশাপাশি অন্যকেও সৎকাজের নির্দেশ দেওয়া খুবই তাত্পর্যপূর্ণ ইবাদত। প্রকৃত অর্থে এটিও একটি সৎকাজ। সূরা আলে ইমরানের ১১০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন— ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি। তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধের জন্য।’ অন্যত্র আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘সৎকাজের আদেশ কর এবং অসৎ কাজের নিষেধ কর। তোমার ওপর যে বিপদ-আপদ আসবে তার জন্য ধৈর্য অবলম্বন কর। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ কাজ।’ (সূরা লোকমান : ১৭)।

বিশ্বনবী (সা.) নিজেও ছিলেন সৎকাজের আদেশদাতা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সৎ মানুষ। নবুয়তের আগে হিলফুল ফুজুল প্রতিষ্ঠা করে তিনি (সা.) সৎকাজের আদেশ করেছেন। আবার নবুয়তের পরও এর ধারাবাহিতা বজায় রেখেছেন। রসুল (সা.)-এর এ মহান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনি সৎকাজের আদেশ করেন এব অসৎ কাজের নিষেধ করেন।’ (সূরা আ’রাফ : ১৫৭)। বর্তমান পৃথিবীতে নেক কাজের আদেশ এবং বদ কাজের নিষেধ করার আমল আবার জারি করতে হবে। তবেই অশান্ত পৃথিবীতে শান্তি ফিরে আসবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সৎকাজের গুরুত্ব বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com