প্রভুর পরিচয় ও জগতের রহস্য জানায় মুর্শিদ | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০ | পড়া হয়েছে 61 বার

প্রভুর পরিচয় ও জগতের রহস্য জানায় মুর্শিদ | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

প্রভুর পরিচয় ও জগতের রহস্য জানায় মুর্শিদ
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেছিলেন, ‘আমি পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করব।’ এ আয়াত থেকে এ কথা পরিষ্কার যে, মানুষ অন্যসব সৃষ্টির মতো সাধারণ কোনো সৃষ্টি নয়। তারা আল্লাহর প্রতিনিধি। আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা ও সামর্থ্য নিয়েই মানুষ জন্মগ্রহণ করে। হাদিসে বলা হয়েছে, কুল্লু মাওলিদিন ইউলাদু আলাল ফিতরাত। এ হাদিসের তাৎপর্যও সে কথাই বলে। জন্মের পর মানবশিশুর চারপাশের পরিবেশ ও বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর তার ভিতরের নফস তাকে আল্লাহর প্রতিনিধি হওয়ার অযোগ্য করে ফেলে। অযোগ্য মানুষকে যোগ্য প্রতিনিধি করার জন্য প্রথম এবং একমাত্র কাজ হলো তার বিগড়ে যাওয়া নফসকে শুধরে দেওয়া, পরিশুদ্ধ করা। আল কোরআনের ভাষায়, ‘যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করল, সে চূড়ান্ত সফলতা লাভ করল।’ নিজেকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, নফসের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য মুর্শিদ প্রয়োজন। পৃথিবীর কোনো ইলম যেমন নিজে নিজে শেখা যায় না, তেমন পরিশুদ্ধ মানুষ হওয়ার ইলমও আপনি আপনি জানা যায় না। এজন্য একজন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়। কোরআনের পরিভাষায় এ ধরনের শিক্ষককে মুর্শিদ বলা হয়। সুরা কাহাফের ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যাকে হেদায়াত দেন শুধু সে-ই হেদায়াতপ্রাপ্ত বান্দা হতে পারে। আর আল্লাহ যাকে গুমরাহ করেন সে কোনো অলি-মুর্শিদ পায় না।’ কবি মাওলানা রুমি বলেন, ‘আমার মুর্শিদ শামসে তাবরিজের সংস্পর্শে না আসা পর্যন্ত আমি প্রভুর পরিচয় এবং জগৎ রহস্য সম্পর্কে জানতে পারিনি।’ অর্থাৎ, প্রভুকে জানার জন্য, চেনার জন্য মুর্শিদের কাছে বয়াত হয়। সে নির্দেশই কোরআনে এভাবে দেওয়া হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদী মুর্শিদের সংস্পর্শ লাভ কর।’ অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার পথে চলে আমাকে পেয়েছে, তুমি তাকে অনুসরণ কর। তাহলে তুমিও আমাকে পেয়ে যাবে।’ সুরা লুকমান, আয়াত ১৫। যারা আল্লাহপ্রাপ্ত মুর্শিদের সংস্পর্শে আসে না তারা সহজেই শয়তানের শিকার হয়ে যায়। এ সম্পর্কে আল কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে আল্লাহর দেওয়া উপদেশ মেনে চলে না, আল্লাহ তার জন্য একজন শয়তান চাপিয়ে দেন। তখন সে শয়তানের অনুসরণ করে গুমরাহ হয়ে যায়।’ সুরা জুখরুফ, আয়াত ৩৬। তবে মনে রাখতে হবে, মুর্শিদ কেবল আল্লাহকে পাওয়ার পথটুকুন দেখিয়ে দেবেন। বাকি কাজ আপনাকেই করতে হবে। মুর্শিদের সান্নিধ্যে থাকলে আল্লাহকে পাওয়ার কঠিন পথটি শুধু সহজ হয়ে যায়। এটুকুই, এর বেশি কিছু নয়। কোনো মুর্শিদই তার মুরিদকে নাজাত দিতে পারবেন না বা চরম পাপী হলেও মুরিদকে হাতে ধরে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন না। আল্লাহ আমাদের সহি বুঝ দিন। কামিল মুর্শিদের হাত ধরে কামিল অলি হওয়ার তৌফিক দিন।

লেখক : মুফাস্সিরে কোরআন।

লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments