রোজা নিয়ে কিছু কথা মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ | পড়া হয়েছে 78 বার

আরবি ‘সিয়াম’ শব্দের ফারসি অনুবাদ ‘রোজা’। সিয়াম পালন করা প্রত্যেক সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধিসম্পন্ন মুসলমানের ওপর ফরজ। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ফা মান শাহিদা মিন কুমুশ শাহর, ফালইয়া সুমহ। যে এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।’ রোজা রাখার জন্য শরিয়তের কিছু নিয়ম আছে; যা না জানলে সহি রোজা পালন করা অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে। এমন কিছু নিয়মই জানাচ্ছি আজকের লেখায়। রোজা রাখার জন্য নিয়ত করতে হয়। নিয়ত মানে অন্তরের সংকল্প। একজন লোক সারাদিন না খেয়ে থাকল, কিন্তু তার অন্তরে রোজার ইচ্ছা ছিল না; তাহলে সে রোজাদার বলে গণ্য হবে না। রোজা রাখার জন্য সকালের আগেই মনস্থির করতে হবে, আজ আমি রোজা রাখব। তাই বলতে পারি, নিয়তের সঙ্গে সব ধরনের খাওয়া ও পান করা এবং সহবাস থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। এ তিনটি কাজ স্বেচ্ছায় করে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। অনেকেরই কিছু খাওয়ার পর বা খাওয়ার মাঝামাঝি মনে হয়, আরে! আমি তো রোজা রেখেছি। তখন যদি আমরা খানা থেকে বিরত থাকি তবেই আমাদের রোজার কোনো সমস্যা হবে না; কিন্তু আমরা যদি খানা বন্ধ না করে ইচ্ছেমতো খেতে থাকি, ভাবি, খেয়ে যেহেতু ফেলেছি রোজা তো ভেঙেই গেছে। ব্যাপারটা তা নয়। এমন হলে রোজা রেখেছি মনে হওয়া মাত্রই খাওয়া বন্ধ করে ফেলতে হবে। আর খাওয়ার অনেক পর যদি মনে হয়, তাহলেও রোজার কোনো সমস্যা হবে না।

অনেকেই প্রায় সময় জিজ্ঞেস করেন, হুজুর! সাহরি খেতে ভুলে গেছি। এখন কি আমার রোজা হবে? হুজুর! তারাবি পড়তে পারিনি, আমার রোজা কি নষ্ট হয়ে গেছে? আমি বলি, ভাই শোনেন! সাহরি, ইফতার, তারাবি রোজার সুন্নত মাত্র। এসব কিছু ঠিকঠাক রেখে রোজা রাখা অতি উত্তম; কিন্তু কোনো দিন যদি আপনি এ সুন্নতগুলো করতে ভুলে যান তাহলে আপনার রোজায় সমস্যা হবে কেন? যেমন মনে করুন, জুমার আগে-পরে কিছু সুন্নত নামাজ আছে। এখন কোনো কারণে আপনার ওই সুন্নতগুলো ছুটে গেল। তাই বলে কি আপনি জুমার ফরজ নামাজ না পড়েই চলে আসবেন? বা সুন্নত ছুটে যাওয়ার কারণে ফরজ হবে নাÑ এমন কোনো কথা ইসলামী শরিয়তে আছে? অবশ্যই নেই। তাই কখনও যদি রোজার কোনো সুন্নত, সাহরি, ইফতার, তারাবি ছুটে যায়Ñ শরিয়ত মতে এতে ফরজ রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। রোজা ভেঙে যাবে, যদি কেউ সাহরি খাওয়ার সময় আছে ভেবে সাহরি খায়, পরে জানতে পারে ওই সময় সাহরির সময় পার হয়ে গেছে। ইফতারির সময় হয়েছে ভেবে কেউ ইফতার করল, পরে জানতে পারল ইফতারের সময় থেকে এখনও কিছু সময় বাকি আছে। এ অবস্থায় রোজার কাজা আদায় করতে হবে। আরেকটি কথা জানা জরুরি, আমাদের দেশে সাহরি ও ইফতারির সময় নিয়ে অযথা কড়াকড়ি ও বাড়াবাড়ি করা হয়। অথচ এসব বিষয়ে শরিয়ত স্পষ্ট বিধান দিয়েছে। কোরআন বলছে, ‘রাতের আঁধারের বুকচিরে ভোরের সাদা রেখা দেখা যাওয়া পর্যন্ত সাহরি খাও।’ আর ইফতারের সময় সম্পর্কে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সূর্য ডুবে যাওয়ার পর আর দেরি করা যাবে না।’ কোরআন এবং সহি হাদিসের এত স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও আমরা আলেমরা কেন মানুষের জন্য ইসলামকে এত কঠিন করে ফেলছি। হে আল্লাহ আপনি আমাদের সহজ করে সহজ রোজা পালনের তৌফিক দিন। য় মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী : বিশিষ্ট মুফাস্সিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

এই লেখাটি আমাদের সময় পত্রিকায়  ছাপা হয়েছিল। দেখতে হলে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments