অনেক বেদনায় অর্জন করেছি স্বাধীনতা

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২০ | পড়া হয়েছে 444 বার

অনেক বেদনায় অর্জন করেছি স্বাধীনতা

অনেক বেদনায় অর্জন করেছি স্বাধীনতা

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা যখন ঘরছাড়া, বাড়িছাড়া, সহায়হারা, স্বজনহারা শরণার্থী-জীবন যাপন করছে, তখন আমরা  স্বাধীন। হে আল্লাহ! আপনার উদ্দেশে শুকরিয়ার সিজদা করছি আমরা ১৭ কোটি বাংলাদেশি। আমাদের অনেক ভালো রেখেছেন। পরাধীনতার যন্ত্রণা আর স্বাধীনতার গুরুত্ব তাদের চেয়ে বেশি কে বুঝবে, যারা এক কাপড়ে, খালি পেটে, নগ্ন পায়ে রাতের আঁধারে জন্মভূমি, মা-মাটি ছেড়ে পালিয়ে গেছে অজানা-অচেনা দেশে। ১৯৭১ সালের এই সময়ে দেশের জনসংখ্যার এক সপ্তাংশ ভোগ করেছে শরণার্থী জীবনের অসহ্য যন্ত্রণা। তারাও তো অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করে মুক্ত করেছে মা-মাটিকে। মাকে ছেড়ে থাকা যেমন সন্তানের জন্য নিদারুণ যন্ত্রণার, মাতৃভূমিকে ছেড়ে যাওয়া বুঝি একই রকম কষ্টের। তাই তো যুগে যুগে মানুষ মাতৃভূমির মাটিকে শত্রুমুক্ত করতে জীবন বাজি রেখেছে হাসিমুখে।

রসুল (সা.) বলেছেন, ‘দেশ রক্ষার্থে এক দিন এক রাতের প্রহরা ক্রমাগত এক মাসের নফল রোজা এবং সারা রাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়ার চেয়ে উত্তম।’ মুসলিম।

সত্য প্রকাশের, গ্রহণের, প্রচারের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য এবং ন্যায়ের চর্চার, অসুন্দরকে বর্জন করার, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যারা এ দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন পরম করুণাময়ের কাছে তাদের জন্য জান্নাত কামনা করছি। 

মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার যন্ত্রণা যে কত বেশি তা বুঝতে পারব নবীজি (সা.) এর জীবনের দিকে তাকালে। শত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেও যখন মাতৃভূমির মাটি আঁকড়ে পড়ে রইলেন নবীজি, তখন অবিশ্বাসীরা ঠিক করল আর দেরি নয়, আজ রাতেই শেষ করে দিতে হবে আবদুল্লার পুত্র মুহাম্মদকে।

রসুল (সা.) শুয়ে আছেন। গভীর রাত। ঝিমানো চাঁদ। এ সময় পূর্ণিমার চাঁদের মতো উদয় হলেন জিবরাইল ফেরেশতা। ফেরেশতাকে দেখেই হুজুরের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। তিনি বুঝতে পারলেন কয়েক বছর ধরে যে ইশরা আমাকে দেওয়া হচ্ছে, আজ বুঝি তা নির্দেশ হয়ে নাজিল হবে। ঠিক তাই। জিবরাইল ফেরেশতা আশ্বস্তের ভঙ্গিতে বললেন, ‘আল্লাহর বন্ধু! এখনই বেরিয়ে পড়ুন। বাইরে আপনাকে মেরে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। আল্লাহর নামে বেরিয়ে যান। ওরা আপনাকে দেখতে পাবে না।’

রসুল (সা.) আলী (রা.)-কে ডেকে বললেন, জ্ঞান নগরীর দরজা হে আলী! আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে হিজরতের কঠিন পথে পা ফেলতে হবে। শৈশব-কৈশোর-যৌবনের স্মৃতি মিশে থাকা মক্কা ছেড়ে চলে যেতে হবে অচেনা-অজানা ইয়াসরিবে। তুমি আমার চাদর গায়ে জড়িয়ে শুয়ে থাকো। শত্রুরা দেখে যেন নিশ্চিত হয় মুহাম্মদ ঘরেই আছে। এই বলে নবীজি (সা.) আঁধার রাতে চলে এলেন আবু বকর (রা.)-এর বাড়ি। প্রিয় বন্ধু আবু বকরকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন ইয়াসরিবের পথে।

পাঠক! মাতৃভূমি ছাড়ার যন্ত্রণা এমনই ভীষণ। তাই আল্লাহর কাছে নির্যাতিত মানুষের মাতৃভূমি ছাড়ার দৃশ্য, হিজরত করার দৃশ্য খুবই বেদনাদায়ক। হে আল্লাহ! মুক্তিযোদ্ধাদের ওপারে ভালো রাখুন এবং যেসব দেশের মুসলমান নির্যাতন ও জুলুমের মুখে পড়ে শরণার্থী হয়ে পড়েছে, ছেড়েছে মা-মাটি দেশকে তাদের সবাইকে সুন্দর জীবন দান করুন।

 

লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাস্সির সোসাইটি।

লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com