ইসলামী সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রতাপশালী খলিফা হারুনুর রশিদের তৃতীয় উত্তরাধিকার খলিফা মুতাসিম আল বিল্লাহ। হারুনুর রশিদের অসিয়ত অনুযায়ী প্রথমে আমিন, তারপর মামুন অতঃপর মোতাসিম বিল্লাহ খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। পুরো নাম আল মুতাসিম আবু ইসহাক মুহাম্মাদ বিন হারুনুর রশিদ। ১৭৮ মতান্তরে ১৮০ হিজরির শাবান মাসে মারদাহ নামক দাসির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। ঐতিহাসিকরা বলেন, খলিফা হরুনুর রশিদের প্রিয় দাসী ছিল এই মারদাহ। জীবনীকাররা লেখেন, খলিফা মুতাসিমের জীবনের সঙ্গে ৮ সংখ্যাটি বেশ ভালোভাবেই জড়িয়ে ছিল। তিনি আব্বাসী খেলাফতের অষ্টম শাসক। হারুনুর রশিদের অষ্টম সন্তান এবং হজরত আব্বাস (রা.)-এর অষ্টম বংশধর। আট বছর আট মাস আট দিন রাজত্ব শেষে ২১৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। জন্ম সালও ১৮০ হিজরি। ৪১ বছর হায়াতে জিন্দেগিতে তিনি ৮টি যুদ্ধে বিজয়লাভ করেন এবং ৮ জন শত্রুকে বধ করেন। আটজন পুত্র ও আটজন কন্যাসন্তানের অধিকারী মুতাসিমের চূড়াও ছিল ৮টি। রবিউল আউয়াল মাসের আট দিন বাকি থাকতেই মনজিলে আখেরাতের পথে যাত্রা করেন তিনি। খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর সাফল্যের মধ্যে অনত্যম ছিল রোমান বিজয়। ২২৩ হিজরিতে তিনি রোম অভিযান করেন। জীবনীকাররা উল্লেখ করেন, যখন খলিফা রোমান আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তখন জ্যোতিষীরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে- এ যুদ্ধে খলিফা ভয়াবহভাবে হারবেন। এ ধরনের ভবিষ্যদ্বাণীকে আমলে নেওয়া যৌক্তিক মনে করলেন না তিনি। যথারীতি যুদ্ধ হলো। তুমুল আক্রমণ করে ৩০ হাজার রোম সেনাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দিলেন মুতাসিম বাহিনী। যুদ্ধ জয়ের পর বিখ্যাত কবি আবু তামামা জ্যোতিষীদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘কোথায় আজ সে বাণী! কোথায় মিথ্যুক জ্যোতিষীরা! তোমরা মিথ্যুক। তোমাদের ভবিষ্যৎ বাণীও মিথ্যা।’ ঐতিহাসিক সূলী বলেন, ‘মুতাসিমের দরবারে যত বাদশাহকে বন্দি অবস্থায় আনা হয়েছে, আমার জানামতে আর কারও দরবারে এত বাদশাহ বন্দি হিসেবে আসেনি।’ মুতাসিম বিল্লাহ পরিকল্পনা করেন, বনু উমাইয়ার শাসকদের অধীনে এখনো যেসব এলাকা রয়েছে সেগুলো তার দখলে চলে আসুক। আহমদ বিন খাসিব বলেন, একদিন মুতাসিম বড় আফসোস করে আমাকে বললেন, ‘বনু উমাইয়ার শাসনামলে আমাদের খান্দানের কেউ বাদশা ছিল না। এখন আমাদের শাসন চলছে কিন্তু তাদের অনেকেই বাদশাহী করছে। আচ্ছা বল তো, বনু উমাইয়াদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কী পরিমাণ অস্ত্র লাগতে পারে?’ এ ঘটনার পর তিনি স্পেন আক্রমণের জন্য অস্ত্র সংগ্রহ করতে থাকেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ইবরাহিম বিন আব্বাস বলেন, খলিফা মুতাসিম বিল্লাহ সবসময় সাহিত্যপূর্ণ ভাষায় কথা বলতেন। তিনিই প্রথম বাদশাহ যার ঘরে রাতদিন সবসময় রান্না চলত। এ জন্য দৈনিক ১ হাজার দিনার ব্যয় হতো। তবে বাবার খুব আদরে সন্তান হওয়ায় বেশি দূর লেখাপড়া তার ভাগ্যে জোটেনি। পরবর্তীতে নিজ চেষ্টায় কিছু কিছু লেখাপড়া করেছেন। তিনি ছিলেন আব্বাসী খেলাফতের একজন সফল শাসক।
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
