মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
২৪ মে ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আমাদের রোজাগুলো কবুল করে নিন
রোজার সবচেয়ে বড় আনুষ্ঠানিকতা হচ্ছে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকা। যদিও না খেয়ে থাকা বা উপবাস করা আর সিয়াম সাধনা এক জিনিস নয়।
তারপরও এই না খেয়ে থাকায় রয়েছে অনেক বড় হিকমত। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় কষ্ট হল ক্ষুধার কষ্ট। এই ক্ষুধা নিবারণের জন্যই আমাদের এত পরিশ্রম, এত ছোটাছুটি। পেটপুরে দু’মুঠো খাওয়ার জন্য কী না করে মানুষ।
একজন মানুষ যতক্ষণ না নিজে ক্ষুধার জ্বালা সইবে ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝবে না ক্ষুধা কী? এ জন্য প্রিন্সিপাল ইবরাহিম খাঁ এক আলোচনায় বলেন, মানুষের ক্ষুধার কষ্ট কী তা বোঝার জন্যও নবীজি (সা.) অনেক সময় না খেয়ে থাকতেন।
বেশির ভাগ সময় তিনি নিজের খাবার অন্যকে দিয়ে অনাহারে কাটাতেন। হাদিস শরিফে পাওয়া যায়, গরিব সাহাবিরা ক্ষুধার কষ্ট সইতে না পেরে পেটে পাথর বাঁধতেন, নবীজি (সা.) তাদের কষ্ট অনুভব করার জন্য না খেয়ে পেটে পাথর বেঁধে দিনের পর দিন মাসের পর মাস কাটিয়ে দিয়েছেন।
হে প্রিয় রোজাদার, আমি-আপনি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত না খেয়ে থাকি। দুপুরের পর থেকে ক্ষুধার মাত্রা বাড়তে থাকে। একসময় মনে হয় আর যেন পারছি না। মাঝে মাঝে এমনও হয়, কাজকর্ম সব বাদ দিয়ে অপেক্ষা করতে হয় ইফতারের জন্য।
তো আমাদের এই কষ্ট তখনই স্বার্থক হবে যখন ভাবব, আমাদের আশপাশে যাদের প্রায়ই না খেয়ে থাকতে হয় তাদেরও ঠিক এমনই কিংবা এর চেয়েও বেশি কষ্ট। তো এই ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে দু’মুঠো খাবার নিশ্চিত করা একজন রোজাদারের অনেক বড় আমল।
আর এ জন্যই আল্লাহতায়ালা সামর্থ্যবানদের ওপর জাকাত-সদকাতুল ফিতরসহ দান-খয়রাত ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে বারবার বলেছেন, এতিম-অসহায়দের অধিকার দিয়ে দাও। আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের পাশে সময় করে দাঁড়াও।
আমরা যদি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়তে না পারি, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে না পারি, তাহলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যত বড় মুত্তাকিই হই না কেন, জাহান্নাম থেকে কখনও বাঁচতে পারব না।
সূরা দাহারে আল্লাহ বলেন, ফেরেশতারা জাহান্নামিদের জিজ্ঞেস করবে, ‘কেন তোমরা জাহান্নামি হলে? জাহান্নামিরা বলবে, আমরা ধার্মিক ছিলাম না। আর ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়ার কর্মসূচি আমাদের অর্থব্যবস্থায় ছিল না।’ এর চেয়ে বড় ভয়ঙ্কর কথা আর কী হতে পারে।
আমাদের সব ধর্মকর্ম বিফলে যাবে, যদি ক্ষুধামুক্ত সমাজ গড়তে না পারি। হে রোজাদার মনে রাখবেন, সারা দিন না খেয়ে থাকা, সারা রাত নামাজ পড়া অনেক সহজ, নিজের কষ্টার্জিত সম্পদ খোদার রাহে অন্যের কল্যাণে বিলিয়ে দেয়া সত্যিই বড় কষ্টের।
তো এই কষ্ট সয়ে আমরা যদি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ার কর্মসূচি নিতে পারি, আশা করা যায় এ ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পরপরই অপরূপ জান্নাত আমাদের ডাকতে থাকবে। হে আল্লাহ! দুনিয়াজুড়ে ইসলামী কল্যাণভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার তাওফিক দিন। আমাদের রোজাগুলো দয়া করে কবুল করে নিন।
লেখক : মোফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
লেখাটি যুগান্তরে প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
