মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
অবশ্যই রসুলুল্লাহ (সা.) কাজ পছন্দ করতেন এবং উম্মতকে কর্মে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তিনি বেকারত্ব ও অলসতা ঘৃণা করতেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, একজন মানুষের শ্রেষ্ঠ অর্জন হলো নিজ হাতে কামাই করা খাবার। (বুখারি)। অন্যের থেকে চেয়ে খাওয়া বা অন্যের ওপর জীবন নির্ভর করা তিনি ঘৃণা করেছেন। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছে চাওয়ার পর সেখান থেকে তাড়া খাওয়ার চেয়ে বরং নিজে দড়ি পাকিয়ে বাজারে বিক্রি করে জীবন ধারণ অনেক উত্তম। (বুখারি)। অনেকে হয়তো বলবেন, দড়ি পাকানো তো খুবই ছোট কাজ, কিন্তু কাজ যতই ছোট হোক এতে আত্মার স্বাধীনতা রক্ষা হয়। কিন্তু অন্যের কাছে ভিক্ষা করলে বা অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর করলে নিজের অন্তর মরে যায়, মনের আনন্দ চলে যায়। এ কারণেই নবীজি (সা.) ছোট কাজকেও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন। কাজের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনেও আল্লাহতায়ালা গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে অনুগত করেছেন, অতএব তোমরা তাঁর বুকে বিচরণ কর এবং তাঁর দেওয়া রিজিক খাও। আর জেনে রাখ! তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা মুলক, আয়াত ১৫)।
এভাবে তিনি সমুদ্রকেও অনুগত করেছেন ফুড, জুয়েলারি ও জলযান চলাচলসহ হরেক কল্যাণ আধার হিসেবে। তা ছাড়া এতে কাজ করা এবং বিভিন্ন উপকার লাভের ধারণা তো আছেই। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সেই সত্তা যিনি কাজে লাগিয়েছেন সমুদ্রকে, যাতে তা থেকে তোমরা তাজা মাংস খেতে পার এবং তা থেকে বের করতে পার পরিধেয় অলংকার। তুমি তাতে জলযানগুলো পানির বুক চিরে চলতে দেখবে। এসবের ব্যবস্থা এ জন্যই করা হয়েছে যেন তোমরা আল্লাহর দয়া অন্বেষণ করার পাশাপাশি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হও। (সুরা নাহল, ১৪)।
আজ আমাদের জীবন আলস্যে ভরে গেছে। চারদিকে শুধুই স্থবিরতা। মোবাইল নিয়ে বসলে ৪-৫ ঘণ্টা কাটিয়ে দিই। গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল টিপে সারা সকাল ঘুমিয়ে কাটাই। এ ধরনের আলস্য থেকে আমাকে অবশ্যই বেরিয়ে আসতে হবে। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের গা-ঝাড়া দিয়ে দাঁড়ানোর তৌফিক দিন। আমিন।
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর।
www.selimazadi.com
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
