আশা করি আমরা মুমিনের খাতায় নাম লিখিয়েছি। ১৪ দিন সিয়াম সাধনায় মুত্তাকি হওয়ার চেষ্টা করছি। সিয়াম হল মুত্তাকি হওয়ার একটি ধাপমাত্র। মুত্তাকি হওয়ার জন্য বিশ্বাসীদের উদ্দেশে আল্লাহতায়ালা একটি নেয়ামত দিয়েছেন, আল কোরআন তার নাম। কোরআনের সঙ্গে সিয়ামের এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
আর সিয়াম এবং কোরআনের সঙ্গে রয়েছে মুত্তাকির গভীর বন্ধুত্ব। এ দুটিই তাকে হাঁটি হাঁটি পায়ে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেবে। কোরআনের সঙ্গে সিয়ামের সম্পর্ক কী? কোরআন নাজিল করা হয়েছে এ মাসেই। কোরআনের ভাষায়, রমজান সে মাস, যে মাসে নাজিল করা হয়েছে মহাগ্রন্থ আল কোরআন। (সূরা বাকারাহ : ১৮৫)।
আর এ কোরআন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, হুদাল্লিল মুত্তাকিন। এটা হল মুত্তাকিদের জন্য গাইডবুক-হেদায়াত। একজন মুত্তাকি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে কোরআনে বাতলানো পথে চলবেন। নিজস্ব কোনো চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণার মতো চলার ন্যূনতম সুযোগ নেই, যদি সে নিজেকে মুত্তাকি বানাতে চায়।
কোরআনের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, হুদাল্লিন্নাস ওয়া বায়্যিনাতিম মিনাল হুদা ওয়াল ফুরকান। কোরআন মানুষের জন্য পথনির্দেশনা। এটি হেদায়াত এবং সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ যাচাইয়ের কষ্টিপাথর। একজন মানুষের জন্য কী ভালো, কী মন্দ এ সিদ্ধান্ত সে নিজে নিতে পারবে না। কোরআন বলে দেবে এগুলো তোমার জন্য ভালো, এগুলো তোমার জন্য মন্দ। যে নিজেকে মুমিন মনে করে মুত্তাকির সাধনায় সফল হতে চায়, তাকে অবশ্যই আগ্রহের সঙ্গে কোরআনে বাতলানো ভালোগুলো মেনে চলতে হবে। আর বেঁচে থাকতে হবে মন্দ কাজগুলো থেকে।
একজন মুমিন যখন তার ব্যক্তি-পরিবার, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা, সমাজ-রাষ্ট্র কোরআনের আলোকে পরিচালনা করবেন, তখনই সে কামেল বান্দা তথা পরিপূর্ণ আল্লাহ সচেতন মানুষ হতে পারবেন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে কোরআনের আলো জ্বালানো সহজ হবে তখন।
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, রোজা এবং কোরআন বান্দার জন্য আল্লাহর কাছে শাফায়াত করবে। রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে খাওয়া এবং কামনা থেকে বেঁচে থাকতে বলেছি, সে আমার কথা শুনেছে। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করো। কোরআন বলবে, হে আল্লাহ! সারাদিনের ক্লান্তি শেষে তোমার বান্দা রাতে আমাকে তেলাওয়াত করেছে। আমাকে নিয়ে গবেষণা করেছে। দিনের প্রতিটি মুহূর্তে আমার বলে দেয়া পথে চলেছে।
তার ব্যাপারে আমার সুপাারিশ গ্রহণ করো। রাসুল (সা.) বলেন, তাদের দু’জনের সুপারিশই কবুল করা হবে। আরেক হাদিস থেকে জানা যায়, বান্দাকে যখন কবরে রাখা হবে, তখনও কোরআন ও সিয়াম তাকে আজাব থেকে রক্ষা করবে।
রোজার বিধান দেয়ার পরের আয়াতেই আল্লাহ বলেন, রমজান সে মাস যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে। আর কোরআন হল মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্য-মিথ্যার মানদণ্ড। আবার কোরআন নাজিল হওয়ার রাতটিকে আল্লাহতায়ালা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত বলে ঘোষণা করেছেন। তাই আসুন! সিয়ামের পাশাপাশি কোরআনওয়ালা জীবনযাপন করি। কোরআন পড়ি, কোরআন বুঝি, কোরআন দিয়ে সমাজ গড়ি। আল্লাহতায়ালা আমাদের কোরআনে আঁকা মুত্তাকি সমাজ গড়ার তাওফিক দিন। কোরআন এবং রোজার শাফায়াত পাওয়ার যোগ্য করুন আমাদের, হে আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।
লেখক : মোফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব
লেখাটি যুগান্তরে প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
