খাদ্য মজুদ করা ভয়াবহ অপরাধ মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | পড়া হয়েছে 588 বার

সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে খাদ্য মজুদ করা ইসলামের দৃষ্টিতে ভয়াবহ অপরাধ। এ ধরনের কুিসত চিন্তার মানুষকে রসুল (সা.) সত্য-সুন্দরের ধর্ম ইসলামের বহির্ভূত বলে ঘোষণা করেছেন।

হজরত মামার (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘জনগণের জীবিকা সংকীর্ণ করে যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করবে সে বড় অপরাধী। আর জেনে রাখ! সে পাপী হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে। (মুসলিম : ১৬০৫, তিরমিজি : ১২৬৭। ) হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘গুদামজাতকারী কতই না ঘৃণিত মানুষ। আল্লাহতায়ালা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে দিলে সে চিন্তিত হয়ে পড়ে। আর বাড়িয়ে দিলে সে আনন্দিত হয়। (সুয়াবুল ইমান : ১০৪৪৫, মেশকাত : ২৭৭১। ) হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখবে, (এর দ্বারা মানুষকে কষ্ট দেবে), সে এ সম্পদ দান করে দিলেও তার গুনাহ মাফের জন্য যথেষ্ট হবে না। (মেশকাত : ২৭৭২। ) খাদ্যদ্রব্য গুদামজাতকারী সম্পর্কে রসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমদানি করবে সে রিজিকপ্রাপ্ত হবে। আর যে গুদামজাত করবে, সে অভিশপ্ত হবে। (ইবনে মাজাহ : ২১৪৪, সুনান দারেমি : ২৪৬৪। )

ভাত আমাদের প্রধান খাদ্য। শহরের মানুষ দুবেলা ভাত খেলেও গ্রামের মানুষের তিন বেলাই ভাত চাই। ভাত হয় চাল থেকে। চাল আসে ধান থেকে। ধান আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। আল্লাহর মেহেরবাণীতে চাষাবাদের জন্য এ দেশের জমিনের উর্বরতা ঈর্ষণীয় তো বটেই, সঙ্গে উপমাযোগ্যও। তাই তো এ দেশের মানুষ খুব দুর্ভিক্ষ ছাড়া কখনো ভাতের অভাবে পড়েনি। না খেয়ে মরেনি। ভাত আর ভাতের মাড় খেয়ে সহজে এ দেশের মানুষ জীবন ধারণ করত হাসিমুখে। আজ থেকে পনেরো বছর আগেও এমন দৃশ্য ছিল ঘরে ঘরে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে বদলেছে জীবনযাত্রার মান, খাদ্যাভ্যাসেও এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু ভাতের স্থান আছে আগের জায়গায়ই।

নিত্য প্রয়োজনীয় এ খাদ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই চালের বাজারে গুজব উঠেছে, বন্যার কারণে ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, তাই চালের সংকট দেখা দিয়েছে। কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। নিত্য এ খাদ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এক কেজি মোটা চাল ৫০ টাকায় কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্তদেরও। এককথায় চরম অস্থির অবস্থা চলছে চালের বাজারে।

এই যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, এর জন্য বন্যা নয়, দায়ী অন্য কিছু। একদল অসাধু ব্যবসায়ী বন্যার অজুহাতে চাল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়েছে এর বাজে প্রভাব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযোগে মিলেছে এর সত্যতা। কয়েকটি জেলায় পাওয়া গেছে চালের বিশাল মজুদ। প্রমাণ হয়েছে, আজকের বাজারের অস্থিরতার নেপথ্যে অসাধু মজুদদারদের কারসাজিই বড় ভূমিকা পালন করছে। ধর্ম ও মানবিকতা কোনো দিক থেকেই মজুদদাররা সমর্থনযোগ্য নয়। তাই যারাই এ ধরনের হীন কাজের সঙ্গে জড়িত শিগগিরই আইনের আওতায় এনে তাদের দৃষ্টান্তযোগ্য শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

www.selimazadi.com

এই লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত হয়েছে। দেখতে হলে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com