মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর
প্রশ্ন : নারীদের জন্য মসজিদে ইতিকাফ করা কি বাধ্যতামূলক?
প্রশ্ন : নারীদের ইতিকাফের জন্য ঘরের সীমানা কতটুকু?
উত্তর : নারীরা ঘরে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবেন। যদি আগ থেকেই ঘরে নামাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত না থাকে, তাহলে ইতিকাফের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করে নেবেন। সেখানেই ইতিকাফ করবেন। (হেদায়া : ১/২৩০)।
প্রশ্ন : নারীদের ইতিকাফের জন্য নির্ধারিত স্থান কি মসজিদের মতো?
উত্তর : হ্যাঁ, নারীরা ঘরের যে স্থানটিকে ইতিকাফের জন্য নির্ধারণ করবেন, তা মসজিদের মতো গণ্য হবে। মানবিক প্রয়োজন ছাড়া তারা সেখান থেকে বেরুতে পারবেন না। অন্যথায় ইতিকাফ ভেঙে যাবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি : ১/২১১)।
প্রশ্ন : বিবাহিতা নারীর ইতিকাফে বসার জন্য কি স্বামীর অনুমতি লাগবে?
উত্তর : হ্যাঁ, বিবাহিতা নারীকে রমজানের শেষ দশকের ইতিকাফ বা অন্য সময়ের নফল ইতিকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতিকাফ করা অনুচিত। তবে স্বামীরও উচিত, যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীর ইতিকাফে বাধা না দেওয়া। তাদের ইতিকাফের সুযোগ দেওয়া চাই। এতে উভয়ই সওয়াব পাবেন। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি : ১/২১১)।
প্রশ্ন : স্বামী স্ত্রীকে ইতিকাফে বসার অনুমতি দেওয়ার পর যদি বাধা দেন, তাহলে করণীয় কি?
উত্তর : স্বামী স্ত্রীকে ইতিকাফের অনুমতি দেওয়ার পর আর বাধা দিতে পারবেন না। বাধা দিলেও সে বাধা মানা স্ত্রীর জন্য জরুরি নয়। (ফতোয়ায়ে শামি : ৩/৪২৮)।
প্রশ্ন : ইতিকাফরত স্ত্রীর সঙ্গে কি স্বামী মেলামেশা করতে পারবেন?
উত্তর : ইতিকাফ অবস্থায় (রাতেও) স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা করা যাবে না। করলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। (সুরা বাকারা : ১৮৭, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৮৫)।
প্রশ্ন : মাসিক বা সন্তান প্রসব-পরবর্তী স্রাব চলাকালে ইতিকাফে বসা কিংবা ইতিকাফে বসে ওসবে আক্রান্ত হলে ইতিকাফের কোনো ক্ষতি হবে?
উত্তর : নারীদের ইতিকাফের জন্য মাসিক বা হায়েজ ও নেফাস বা সন্তান প্রসব-পরবর্তী স্রাব থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত। হায়েজ-নেফাস অবস্থায় ইতিকাফ সহিহ হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৪)। তাই নারীদের ইতিকাফে বসার আগেই হায়েজ-নেফাসের দিন-তারিখ হিসাব করে বসা উচিত, যাতে ইতিকাফ শুরু করার পর পিরিয়ড শুরু না হয়ে যায়। তবে কারও রমজানের শেষ দশকে পিরিয়ড হওয়ার নিয়ম থাকলে তিনি পিরিয়ড শুরু হওয়া পর্যন্ত নফল ইতিকাফ করতেই পারেন। অবশ্য ওষুধ-বড়ি খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রেখে রোজা রাখলে ও ইতিকাফ করলে রোজা ও ইতিকাফ সহিহ হবে। ইতিকাফ শুরু করার পর পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে ইতিকাফ ভেঙে যাবে। পরে শুধু একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
