নিজেকে সর্বতোভাবে প্রস্তুত করে নিতে | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | মঙ্গলবার, ০৭ মে ২০১৯ | পড়া হয়েছে 404 বার

নিজেকে সর্বতোভাবে প্রস্তুত করে নিতে | মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

স্বাগত মাহে রমজান। রমজান মাস হচ্ছে বান্দার ইবাদতের বসন্তকাল। আত্মসংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জন করে মাবুদের সান্নিধ্য ও সন্তোষ অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে এসেছে রমজান। রমজান এলো প্রেম-ভালোবাসা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দায়িত্ববোধকে জাগ্রত করতে। বিশ্ব মুসলিম প্রতিবছর এই মাসে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ পালনে বিশেষভাবে সচেষ্ট হয়। অকৃত্রিম বিশ্বাস আর হৃদয়ভরা ভালোবাসা নিয়ে আশা করে আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষিত নানা পুরস্কার লাভের। মোবারক এই মাসের আগমন মুসলিম উম্মাহর জন্য এক শুভ উপলক্ষ। এ মাস মূলত সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মাওলার নৈকট্য লাভের সাধনা করার মাস।

সিয়াম শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। কোরআন-হাদিসের পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার ও যৌনসম্ভোগ, অশ্লীল কথা ও কর্ম থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম। (ফাতহুল বারি, চতুর্থ খণ্ড)

কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তোমাদের ওপর রোজা আবশ্যিক বা ফরজ করা হলো, যেমন তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের আগে যেসব উম্মত ছিল তাদের প্রতি, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)

এ আয়াত নাজিল হওয়ার পরের বছর, রমজান আসার আগে আল্লাহর হাবিব (সা.) সমবেত সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশে এক দীর্ঘ ভাষণ দেন। এতে তিনি রমজানের গুরুত্ব, উদ্দেশ্য ও করণীয় সম্পর্কে প্রিয় উম্মতকে অবহিত করেন। আল্লাহ পাক তাঁর প্রেমপিয়াসি বান্দাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘তোমাদের যে রমজান মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৫)

মাওলার কুদরতি কদমে অসংখ্যবার লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এ জন্য যে তিনি আমাদের প্রেমের মাস রমজানে এনে দাঁড় করিয়েছেন। রমজান এলো মৃত আত্মাকে জাগিয়ে দিতে। রমজান এসেছে রুহের ঘরে আলো জ্বালিয়ে দিতে। রমজান এসেছে প্রেমপ্রদীপের পুড়ে যাওয়া সলতেয় তেল দিতে। যাদের আত্মার দরজা খোলা থাকে, যাদের ভাগ্যে হিদায়াত থাকে, যারা সঠিক পথের সন্ধান করে—রমজান তাদের নিয়ে যায় আলোর ঠিকানায়। তারা পেয়ে যায় দিদারে ইলাহির টিকিট। জান্নাতের সার্টিফিকেট। মাবুদ তাদের আত্মায় দান করেন রহমত। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ঈমানি চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যে ব্যক্তি সিয়াম আদায় করবে, তার আগের সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, মুসলিম)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের প্রথম রাত এলে শয়তান ও অবাধ্য জিনদের শিকলবদ্ধ করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কোনো দরজা আর খোলা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। এরপর কোনো দরজা আর বন্ধ করা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণা করেন, হে কল্যাণপ্রার্থী, তুমি এগিয়ে এসো। আর হে অকল্যাণপ্রত্যাশী, তুমি নিবৃত্ত হও। এ মাসে আল্লাহ অনেককে মুক্তি দেবেন। প্রতিটি রাতে এভাবে ঘোষণা চলতে থাকে। রমজান মুমিনের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ১১ মাস দুনিয়ার কর্মব্যস্ততায় যাদের ঈমানের প্রদীপ নিষ্প্রভ হয়ে এসেছে, যাদের আত্মায় পাপাচারের কালো দাগ পড়েছে, কঠিন মরিচা ধরেছে যাদের কলবে—রমজান এলো এই মরিচা আর দাগ দূর করতে। খোদার রহমতের পানি দিয়ে ধুয়েমুছে পরিচ্ছন্ন করতে, রুহের ঘরে জমে থাকা সব ধুলাবালি আর আবর্জনা সাফ করতে। তাই রমজানের প্রথম থেকেই খোদার রহমতের তালাশে নিজেকে সর্বতোভাবে প্রস্তুত করে নেওয়া হবে মুমিনের একমাত্র কাজ।

www.selimazadi.com

লেখাটি কালের কণ্ঠে প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com