বিয়ে সমাজকে পরিশুদ্ধ রাখে
একটি পরিশুদ্ধ সমাজের জন্য বিয়ে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এ আয়াত থেকেও বোঝা যায়। যারা বিয়ে করে না তাদের ব্যাপারে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন রসুল (সা.)। বুখারির বর্ণনা থেকে জানা যায়, একজন সাহাবি বিয়ে না করে জীবনভর ইবাদতের সাগরে ডুবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। রসুল (সা.) তাঁর এ কথা শুনে ফেলেন। তিনি প্রচন্ড রাগ হয়ে বললেন, আরে! তোমাদের সবার চেয়ে বেশি মুত্তাকি আমি। আমি ইবাদতও করি, নারীসঙ্গও করি। এরপর পুরো উম্মতকে উদ্দেশ করে রসুল (সা.) বললেন, ‘আননিকাহু সুন্নাতি। অর্থাৎ বিয়ে হলো আমার সুন্নত। যারা আমার সুন্নত পালন করবে তারা আমার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে। আর যারা আমার সুন্নত ছেড়ে দেবে তারা আমার উম্মতই নয়।’ বুখারি : কিতাবুন নিকাহ।
মাওলানা আবদুর রহিম তাঁর বিখ্যাত ‘পারিবারিক জীবন’ গ্রন্থে লিখেছেন, ইসলামে বিয়ের ব্যাপারে এত গুরুত্ব দেওয়ার পরও অনেক সময় যুবক-যুবতীরা কেবল দারিদ্র্যের অজুহাতে বিয়ে করতে রাজি হয় না। তারা মনে করে বিয়ে করলে আর্থিক দারিদ্র্য বেড়ে যাবে। আর এ দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বা আরও বেশি অর্থ উপার্জনের সুযোগ না হলে জীবনমান নিচে নেমে যাবে কিংবা জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। যুবক-যুবতীদের এ ধরনের চিন্তা-চেতনা শরিয়তের আলোকে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এসব চিন্তা সঠিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। কেননা মানুষের আয়-রোজগার স্থায়ী বা অপরিবর্তনীয় কোনো বিষয় নয়। যে আল্লাহ আজ একজনকে ৫০ টাকা দিচ্ছেন, কাল সে আল্লাহই তাকে ১০০ টাকা দিতে পারেন।
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি।
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
