মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার কিংবা যৌনাচার করলে রোজা ভেঙে যায়। ভুলবশত খেলে বা সহবাস করলে রোজা ভাঙবে না। তবে স্মরণ হওয়া মাত্র এ থেকে বিরত না হলে রোজা ভেঙে যাবে। পরে কাজা আদায় করতে হবে। একটি দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি নবীজিকে (সা.) বলল, আমি রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয়েছি। রসুল (সা.) তাকে বললেন, তুমি কাজা ও কাফফারা দুটোই আদায় করবে।’ (বুখারি) আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত পানাহার করল। রসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি কাফফারাস্বরূপ একটি গোলাম আজাদ করবে অথবা দুই মাস টানা রোজা রাখবে। এ দুটো যদি সম্ভব না হয় তাহলে অবশ্যই ষাটজন মিসকিনকে পেট ভরে খাওয়াবে।’ (সুনানে দারাকুতনি)
তবে রোজা অবস্থায় হায়েজ বা নেফাস শুরু হলে রোজা ভেঙে যাবে। পরে তা কাজা করতে হবে, কাফফারার প্রয়োজন নেই। আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবীজি (সা.) ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আজহার দিন নারীদের লক্ষ করে বললেন, ‘হে নারীসমাজ! তোমরা ঋতুস্রাবের সময় রোজা রাখতে পারো না এবং নামাজও পড়তে পারো না। এটা তোমাদে ধর্মের অপূর্ণতা।’ (বুখারি)
অজু বা গোসলের সময় রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভিতর পানি চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে। তাই রোজা অবস্থায় অজু-গোসলের সময় নাকের নরম স্থানে পানি পৌঁছানো এবং গড়গড়াসহ কুলি করার প্রয়োজন নেই। সুফিয়ান সাওরি (রহ.) বলেন, ‘রোজা অবস্থায় কুলি করতে গিয়ে অনিচ্ছায় গলার ভিতর পানি চলে গেলে রোজা ভেঙে যাবে এবং তা কাজা করতে হবে।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক) হানাফি ইমামদের মতে, দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে যদি তা থুতুর সঙ্গে ভিতরে চলে যায় তবে রক্তের পরিমাণ থুতুর সমান বা বেশি হলে রোজা ভেঙে যাবে। (আলবাহরুর রায়েক ২য় খণ্ড, ২৭৩ পৃষ্ঠা) হানাফি আলেমরা আরও বলেন, মুখে বমি চলে আসার পর ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে। যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। (দুররে মুখতার ২য় খণ্ড, ৪১৫ পৃষ্ঠা),
লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীর সাহেব, আউলিয়ানগর,www.selimazadi.com
লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…
