মহান আল্লাহ এ পৃথিবী শীত-গ্রীষ্ম, বর্ষা-বসন্তের এক মহান ছন্দে সাজিয়েছেন। একেক মৌসুমের একেক ছন্দ। বসন্তে মন উতলা হয়, বর্ষায় মনে আবেগ আসে, শীতে আসে ঘুমকাতুরে অলস ভাব। যারা গরিব তাদের অলসতার সুযোগ নেই। শীতে কাঁপতে কাঁপতেই দিনরাত খাটতে হয় সংসারের জন্য। সমাজের যারা ধনবান তারা তাদের শীতবস্ত্র দান করে অনায়াসেই এ সমস্যার সমাধান করতে পারেন। নবী (সা.)-এর সমাজব্যবস্থা ছিল এ রকমই।
প্রকৃতিতে শীতের হাওয়া বইছে। প্রচণ্ড গরমের পর শীতের হিম মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। মানুষ শীত উপভোগের প্রস্তুতি নেয়। গরম কাপড়ে উষ্ণতা খোঁজে। গ্রাম থেকে শহরে সবখানে চলে পিঠা-পুলির উৎসব। ভ্রমণপিপাসুরা বেরিয়ে পড়ে প্রাণের সন্ধানে। দেশ-বিদেশ ঘুরে রোমঞ্চকর সময় কাটান তারা। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা পৃথিবীর বুকে পরিভ্রমণ করে দেখ পূর্ববর্তী লোকদের কেমন পরিণাম হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মুশরিক ছিল। (সূরা রুম, ৩০:৪২।) শীত সব মানুষের জন্য সুখময়-আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে না। আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য মানুষ আছে, যাদের জন্য কষ্টের আরেক নাম শীত। নিম্নমধ্য আয়ের বাংলাদেশে এখনো দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যাই বেশি। তারা খাবার জোগান দিতে গিয়ে শীতে গরমের উষ্ণতার ব্যবস্থা করতে পারে না। অনেকের ঘরে একজনের জন্য তিন থেকে চারটি লেপ-কম্বল এবং আট থেকে দশটি শীতের কাপড় থাকলেও তার প্রতিবেশী দরিদ্র দিনমজুর শীতের প্রকোপে নির্ঘুম কষ্টে রাত কাটায়। প্রতিবেশীর এ করুণ অবস্থা সম্পর্কে যারা খোঁজ নেয় না নবীজির উম্মত হিসেবে তারা নিজেদের দাবি করার অধিকার রাখে কিনা ভাবার বিষয়। নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিবেশীকে ক্ষুধার্ত রেখে নিজে পেট ভরে খায়, সে মুমিন নয়।’ (তাবরানি, বাজজার।) প্রতিবেশীকে শীতার্ত রেখে নিজে কম্বল জড়িয়ে ঘুমানো ব্যক্তি সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য।
এই লেখাটি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসে প্রকাশিত হয়েছে। দেখতে হলে ক্লিক করুন…
