সিয়ামে মুমিন হওয়া যায় মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ | পড়া হয়েছে 595 বার

ইসলামের পাঁচ বুনিয়াদের অন্যতম সিয়াম। সাধনার মাসের আজ দ্বিতীয় দিন।

আল্লাহ তায়ালা এ মাসে সিয়াম পালনকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য ফরজ করেছেন। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনরা, তোমাদের ওপর সিয়াম পালনকে আবশ্যিক করা হয়েছে, যেমন তা আবশ্যিক করা হয়েছিল তোমাদের আগের কালে যারা ছিল তাদের ওপর, যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পার। (সূরা বাকারা আাায়াত ১৮৩)। আয়াতে ‘কুতিবা আলাইকুম’ শব্দ ব্যবহার করে বোঝানো হয়েছে সিয়াম পালন একটি আবশ্যিক ইবাদত। রমজান মাসের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক নর-নারীর ওপর অবশ্য কর্তব্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়্যত করে পানাহার ও কামাচার বর্জন করা। ধর্মসম্মত কারণ ছাড়া সিয়াম পালন থেকে বিরত থাকা মুসলিম পরিচয়ের পরিপন্থী। মহানবী সা. মাহে রমজানের সিয়াম পালনকে ইসলামের অন্যতম বুনিয়াদ বলে উল্লেখ করেছেন। বুখারি ও মুসলিম শরিফে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত আছে, মহানবী সা. ইরশাদ করেন, ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত— এ মর্মে সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সা. আল্লহর রাসূল, সালাত আদায় করা, জাকাত দেয়া, হজ করা ও রমজানের সিয়াম পালন করা। বুখারি ও মুসলিমসহ হাদিসের প্রায় সব প্রসিদ্ধ গ্রন্থে একটি হাদিস সঙ্কলিত হয়েছে, যা হাদিসে জিবরাইল নামে পরিচিত। মহানবী সা:-এর জীবনের শেষভাগে একদিন হজরত জিবরাইল আ: এসে ইসলামের মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং আল্লাহর রাসূল তার জবাব দেন। এ জন্য হাদিসটির এমন নাম দেয়া হয়েছে। সেখানে ইসলাম কাকে বলে— এ প্রশ্নের জবাবে নবী করীম সা. বলেছিলেন, তুমি এ মর্মে সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই ও মুহাম্মাদ সা. তার বান্দা ও রাসূল, নামাজ আদায় করবে, জাকাত দেবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ করবে। পাঁচ বিষয়কে ইসলামের ভিত্তি হিসেবে কেন সাব্যস্ত করা হলো, তার ব্যাখ্যায় রয়েছে অনেক অভিমত। প্রথমত, মহান রাব্বুল আলামিনের প্রতি দাসত্বের পাশাপাশি অনুরাগ ও প্রেমের প্রমাণ দিতে এ কয়টি বিষয়ের ভূমিকা অনন্য। কালেমায়ে শাহাদাত পাঠের মাধ্যমে আদম সন্তানেরা মহান স্রষ্টার প্রতি নিজের দাসত্ব ও আনুগত্যের অঙ্গীকার ঘোষণা করে। আল্লাহতায়ালার বিধান ও মহানবী সা এর আদর্শ মেনে নেয়ার ও অনুসরণ করার শপথ নেয়াই কালেমায়ে তৈয়্যেবা ও কালেমায়ে শাহাদাতের মূল তাত্পর্য। সালাতে প্রকাশ্যভাবে, জাকাতে আর্থিকভাবে ও সিয়ামে সংযম পালনের মাধ্যমে মহান আল্লহর প্রতি দাসত্বের প্রমাণ দেয়া হয়। দ্বিতীয়ত, স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যের প্রধান বাধা অহংকার দমন হয় সিয়াম পালনের মাধ্যমে। তৃতীয়ত, আল্লার নির্দেশ পালনে ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয় সিয়ামের মধ্য দিয়ে। চতুর্থত, একজন মুসলমানের ওপর যেমন কিছু করণীয় তেমনি কিছু বর্জনীয় কর্তব্য রয়েছে। বর্জনীয় কর্তব্যগুলোর প্রথমেই আসে নির্দিষ্ট সময়সীমায় পানাহার বর্জনের বিষয়, যা সিয়াম নামে পরিচিত। পঞ্চমত, মুসলমানদের পারস্পরিক সমবেদনা ও সহানুভূতির চেতনা জাগ্রত হয় সিয়ামের কারণে। হজরত আদম ও হাওয়া আ:-এর সন্তান হিসেবে বিশ্বের সমগ্র মানবগোষ্ঠী যে একই পরিবারের সদস্য, তার দাবি, অন্যদের কষ্ট ও দুর্দশা অনুভব করা। সিয়ামের কারণে সেই অনুভূতি আসে। তাই সিয়াম আদায়ের ফলে মুমিন বান্দাদের মধ্যে যেমন তাকওয়ার গুণ সৃষ্টি হয়, তেমনি মানবসমাজে সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টিতে এ ইবাদতের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। অতএব এ পবিত্র মাসে সিয়াম পালন অপরিহার্য হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ কিংবা প্রশ্নের অবকাশ নেই। এটি ইসলামের অকাট্য প্রমাণিত বিষয়গুলোর অন্তর্গত। আর ঈমানদার হিসেবে পরিচিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলো নির্দ্বিধায় মেনে চলা। এসব বিষয়ে প্রশ্ন তোলার অর্থ ইসলামের সীমা থেকে বাইরে চলে যাওয়া। এমনকি বেশির ভাগ মেনে নিয়েও এক বা একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন তোলাও ঈমানের বরখেলাপ। সালাত, সিয়াম, জাকাত প্রভৃতি ইবাদত সন্দেহাতীতভাবে ফরজ। শুধু তা-ই নয়, এগুলো আদায়ের যে পদ্ধতি ও নিয়ম আল্লার রাসূল নির্দেশ করে গেছেন, ঠিক সেভাবেই করতে হবে। কেননা এসব নিয়মও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহর রাসূলের উক্তি, আচরণ ও অনুমোদনের ভিত্তিতে এসব নিয়ম বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আভিধানিক অর্থ কিংবা অন্য কোনো যুক্তির দোহাই দিয়ে এ নিয়মের ব্যতিক্রম করা যাবে না। বিদায় হজে মহানবী সা. ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদের কাছে যা রেখে যাচ্ছি, তোমরা যত দিন তা মজবুত করে ধরে রাখবে, তত দিন তোমরা বিচ্যুত হবে না, তা হলো আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ। লেখক: বিশিষ্ট মুফাসিসরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। www.selimazadi.com

এই লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিনে ছাপা হয়েছিল। দেখতে হলে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com