হে খোদা! এই রমজানের মাধ্যমে আমাদের বিনীত জীবন দান করুন মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | শনিবার, ০৩ জুন ২০১৭ | পড়া হয়েছে 613 বার

মানবসৃষ্টির মৌলিক উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত। আর ইবাদতের দাবি হলো মানুষ পৃথিবীতে আসার পর থেকে সকাল-সন্ধ্যা জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর ইবাদতে কাটাবে। কারণ আল্লাহতায়ালা বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন এই শর্তে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত’ (সুরা তাওবা : ১১১)। আল্লাহও জানতেন যে, বান্দা যখন জীবন ও সম্পদের পেছনে ছুটবে, তখন তার অন্তর পাপের কালোপর্দায় ঢেকে যাবে। সে ভুলে যাবে তার জীবনের উদ্দেশ্য, সে ভুলে বসবে এই জীবন যে তার নয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বান্দাকে তার জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্যে ফিরিয়ে নিতে দান করেছেন রমজান। সুফিদের মতে, বান্দা যদি রমজানে আল্লাহর রাসুলের একটি হাদিসের ওপর আমল করতে পারে তাহলে সে তার জীবনের মৌলিক উদ্দেশ্য সাধনে শতভাগ সফল হতে পারবে। হাদিসটি হলোÑ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেছেন, চারটি গুণ এমন রয়েছে, যদি তা তোমাদের মধ্যে এসে যায় তাহলে তুমি দুনিয়ার কোনো নেয়ামত না পেলেও তোমার কোনো দুঃখ হওয়া উচিত নয়। এ চারটি গুণ হলোÑ ১. আমানত সংরক্ষণ করা, ২. সত্য কথা বলা, ৩. সচ্চরিত্রতা অবলম্বন করা ও ৪. পবিত্র খাবার গ্রহণ করা। কোরআন-হাদিসের বহু স্থানে আমানত সংরক্ষণের প্রতি বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের ভাষায়, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের আমানতগুলোকে তার প্রাপকের কাছে দিয়ে দিতে নির্দেশ করেছেন’ (সুরা : নিসা)। হাদিসপাকে আল্লাহ আমানতের খেয়ানতকে মুনাফেকের চরিত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থাৎ এটি এমন গুণ, যা পালন না করলে প্রকৃত মুসলমান হওয়া যায় না। মিথ্যাবাদির ওপর আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের অভিশাপ রয়েছে। একটি জাতির ধ্বংসের জন্য একজনের একটি মিথ্যা কথাই যথেষ্ট। সচ্চরিত্র হচ্ছে মুমিনের পোশাক। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে প্রেরিত হয়েছি চারিত্রিক সৌন্দর্যের চূড়ান্ত বিকাশের জন্য’ (বুখারি)। হারাম খাদ্য বর্জন করতে হবে। হাদিসে এসেছে, যে হারাম খায় তার কোনো ইবাদত কবুল হয় না। হাদিসটির প্রতি লক্ষ করলে দেখা যায়, আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সুন্দর ও সঠিক পথে পরিচালনা করার যাবতীয় উপকরণ রয়েছে এতে। রমজান মাস যেহেতু সাধনার মাস, সিয়াম সাধনার পাশাপাশি আমরা যদি এ চারটি গুণ সাধনা করে অর্জন করতে পারি, তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিশ্চয় আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দেবেন।

আল্লাহর ভালোবাসা, নৈকট্য আর ক্ষমা পেতে হলে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, যে আমার সুন্নতকে ভালোবাসে (অর্থাৎ আমার দেখানো পথে চলে) সে আমাকে ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে আমার সঙ্গে জান্নাতে যাবে। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের ভালোবাসা অর্জনের মাস মাহে রমজান। বুজুরগানে দ্বীনদের মতে, অন্তত রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর নির্দেশমতে রাসুল (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে পরিচালনার অনুশীলন করলে বাকি ১১ মাস দ্বীন ও ইমানের ওপর চলা অতি সহজ হয়ে যায়। আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের ভালোবাসা অর্জনের পথ সুগম হয়। এ জন্য প্রত্যেক সিয়াম সাধকের উচিত রমজানে দুটি বিষয়ের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রাখা। প্রথমত, প্রতিটি কাজের আগে নিয়তকে বিশুদ্ধ করে নেওয়া। অর্থাৎ আমি যে তাসবিহ আদায় করছি, তেলাওয়াত করছি এর উদ্দেশ্য কী? আমার উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন না হয় তাহলে এর মাধ্যমে সওয়াব তো পাবই না, বরং স্বেচ্ছায় কঠিন পাপের বোঝা দিয়ে আমার আমলনামা ভারী করলাম। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি কাজের আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করে নিন, আমি যে কাজ করছি এই কাজে আল্লাহর নির্দেশ আছে কিনা। আল্লাহর নির্দেশ থাকলে রাসুল (সা.)-এর দেখানো পদ্ধতিতে তা পালন করুন। তাহলেই আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা অর্জন হবে। সাহাবায়ে কেরাম, ওলি-আউলিয়া, পীর-মাশায়েখদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা রমজানে অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি দিনের বিশেষ একটি সময় দরুদ শরিফ পাঠে মগ্ন হয়ে যেতেন। কারণ দরুদ শরিফ এমন একটি আমল, যা না পড়লে অনেক বড় আমলও আল্লাহ গ্রহণ করেন না। মাহে রমজানের বাকি দিনগুলোয় আল্লাহতায়ালা আমাদের বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করার তাওফিক দিন! তিনি ও তার হাবিব (সা.)-এর ভালোবাসায় আমাদের অন্তর যেন আল্লাহ ভরিয়ে দেন এবং এই রমজানের মাধ্যমে আমাদের বিনীত জীবন দান করুন। আমিন! য় মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

এই লেখাটি আমাদের সময়  ছাপা হয়েছিল। দেখতে হলে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com