আলেমদের জন্য ইমাম গাজ্জালির উপদেশ

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী | সোমবার, ০৭ আগস্ট ২০২৩ | পড়া হয়েছে 35 বার

মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী

হিজরি পাঁচ শ শতকের দার্শনিক ছিলেন ইমাম গাজ্জালি (রহ.)। পুরো নাম আবু হামেদ মুহাম্মাদ আল গাজ্জালি। এহইয়াউল উলুমুদ্দিন, কিমিয়ায়ে সাআদাতসহ অনেক গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি জীবনের দীর্ঘ সময় শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর অসংখ্য ছাত্র ছিল। একজন ছাত্রের গল্প বলব আজ। প্রত্যেক শিক্ষকেরই কিছু প্রিয় ছাত্র থাকে। আমাদের আজকের আলোচ্য ছাত্রটিও ইমাম গাজ্জালির বিশেষ আদরের ছিল। দীর্ঘ সময় ইমাম গাজ্জালির খেদমতে থেকে কোরআন, হাদিস, উসুল, ফিকাহ, কালাম, আকাইদ, দর্শনসহ জ্ঞানের অনেক শাখায় বুৎপত্তি অর্জন শেষে ছাত্রটি বাড়ি ফিরে যায়। কিছুদিন পর ছাত্রটির মনে এক ধরনের হাল তৈরি হয়। সে ভাবে, ইলম তো অনেক অর্জন করেছি কিন্তু কোন ইলম আমার জন্য উপকারী তা বুঝব কীভাবে? জ্ঞানের সাগরে সাঁতরে বেড়াচ্ছি কিন্তু এখানে কোনটা মণিমুক্তা আর কোনটা বিষাক্ত প্রাণী বুঝব কীভাবে? এমনিভাবে নানা চিন্তায় ছাত্রটি খুব পেরেশান হয়ে পড়ে। মনের অস্থিরতা দূর করার জন্য তিনি নিজ ওস্তাদ ইমাম গাজ্জালিকে সবকিছু খুলে একটি চিঠি লিখেন। ছাত্র লিখেন, হে আমার সম্মানিত ওস্তাদ! জীবনে অনেক বিদ্যাই আপনার কাছে শিখেছি। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না কোন বিদ্যা আমার পরকালের পাথেয় হবে। তাই আপনি আমাকে এমন এক পথ বলে দিন যা আমার জন্য সংক্ষিপ্ত এবং সহজ হবে। বাকি জীবন আমি আপনার উপদেশ মেনে চলব এবং এর বাইরে যাব না।ছাত্রের চিঠির জবাবে সংক্ষিপ্ত একটি রিসালা লিখেন ইমাম গাজ্জালি। রিসালায় ঘুরেফিরে একটি কথাই বারবার জোর দিয়েছেন তিনি- পরকালে বাঁচতে চাইলে আমল করতে হবে। আমল ছাড়া কোনো ইলমই কাজে আসবে না। শুরুতেই তিনি লিখেন, ‘উপদেশ আসে রিসালাতের নূর থেকে। যদি তোমার সামনে রসুল (সা.)-এর হাদিস থাকে তাহলে আর কারও উপদেশের প্রয়োজন নেই। আর তুমি যদি হাদিসের মণিমুক্তা থেকে উপদেশ গ্রহণে ব্যর্থ হও তাহলে এত বছর আমার থেকে কী শিখলে। তোমার প্রতি আমার প্রথম নসিহত হলো, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘অনর্থক বিষয় নিয়ে পড়ে থেক না। কোনো বান্দার প্রতি আল্লাহ মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম আলামত হলো সে অনর্থক বিষয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বান্দা জীবনের কোনো ক্ষুদ্রতম মুহূর্তও যদি অনর্থক কাজে কাটিয়ে দেয় তাহলে সে জীবনে এমন পরিস্থিতির স্বীকার হবে যখন সে ওই অনর্থকতার জন্য আফসোস করতে থাকবে। আর জেনে রাখ, কারও বয়স যদি চল্লিশের কোঠায় চলে আসে কিন্তু তার জীবনে এখনো ভালো কাজের পরিমাণ বাড়েনি তাহলে সে যেন নিজেকে জাহান্নামের জন্য প্রস্তুত রাখে।’কিতাবের জ্ঞানে ভরপুর একজন আলেমের জন্য সবচেয়ে জরুরি নসিহতটিই করেছেন ইমাম গাজ্জালি। মানুষ যখন অক্ষরের জ্ঞানে জ্ঞানী হয়, তখন তার ভিতর এক ধরনের বড়ত্বভাব, অহমিকাভাব চলে আসে। সে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের জন্য, নিজের বুঝ নির্ভুল প্রমাণের জন্য অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়ে যায়।লেখক : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি, পীরসাহেব, আউলিয়ানগর।

লেখাটি বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করুন…

মন্তব্য...

comments

কে. আর প্লাজা (১২ তলা) ৩১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ফোন: ০২-৯৫১৫৬৪৬, মোবাইল: ০১৭১৮৭৭৮২৩৮, ০১৯৬৫৬১৮৯৪৭
ইমেইল- mawlanaselimhossainazadi1985@gmail.com
ওয়ের সাইট: selimazadi.com