মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
সেদিন সন্ধ্যা থেকেই জোনাক পোকাদের মনে আনন্দের সীমা নেই। খুশিতে ঘুম নামে না রঙিন প্রজাপতির চোখে। বনের পশুপাখির কানে কানে কে যেন জানিয়ে দিল তিনি আসছেন। আসছেন দয়ালু নবী (সা.)। পেয়ারা নবীর সিরাত নিয়ে যাঁরাই কলম ধরেছেন তারাই বলতে বাধ্য হয়েছেন, রসুল (সা.) যেদিন ধূলির ধরায় তাশরিফ এনেছেন সেদিন মরু আরবের প্রতিটি ধূলিকণাও খুশিতে বাগ বাগ হয়েছিল। সিরাতের বিখ্যাত কিতাব মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া গ্রন্থের লেখক বলেন, রসুল (সা.) যে রাতে জন্মগ্রহণ করেন সে রাতের মর্যাদা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সে রাতে যে লক্ষণগুলো ইতিহাসবিদরা বিশ্বস্ত সূত্রে বর্ণনা করেছেন তা থেকে এটাই প্রমাণ হয়, এমন মর্যাদাপূর্ণ রাত পৃথিবীতে আসেনি আর আসবেও না। মাওয়াহেবের লেখক বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইমাম কুস্তালানি (মৃত্যু ৯২৩ হিজরি) রসুলের জন্ম তারিখ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে বলেন, সবচেয়ে বিশুদ্ধতম মত হলো, রসুল (সা.) মক্কায় হস্তীবাহিনীর আক্রমণের ৪০ মতান্তরে ৫০ দিন পরে জন্মগ্রহণ করেন। প্রসিদ্ধমতে, হুজুরের জন্মের তারিখ ছিল ১২ রবিউল আউয়াল। এ তারিখেই মক্কাবাসী রসুল (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে বিভিন্ন নফল ইবাদত করত। হুব্বে রসুলের আলোচনার আসর বসাত। (মাওয়াহেব, প্রথম খন্ড, ২৫ পৃষ্ঠা; ইবনে হিশাম প্রথম খন্ড ১৬৪ পৃষ্ঠা)।